
এম ইয়াকুব হাসান অন্তর, লাখাই প্রতিনিধিঃ
রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যসহ সব কিছুর দাম এখন আকাশছোঁয়া। মাসের ব্যবধানে সবজি, মাছ-মাংস, মুরগি, ডিম, পেঁয়াজ, আদা, চিনিসহ প্রতিটি পণ্যেরই দাম বেড়েছে দ্বিগুন। এই দুমূর্ল্যের বাজারে কোনো পণ্য কিনতে গিয়ে ১০ বার ভাবতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
বৃহস্পতিবার(১৯ফেব্রুয়ারি) প্রথম রমজান সকালে সরজমিনে লাখাইয়ের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে,
বিভিন্ন সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একমাস আগে ২০ টাকা যে পেঁপে ছিল, সেই পেঁপে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা মরিচ কিছুদিন আগে ৬০/৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৮০ / ২০০ টাকা, গত রমজানে শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হলেওএ বছর৮০/ ১০০ টাকা, প্রতি কেজি টমেটো ৫০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, আলুর কেজি ডায়মন্ড ২০/ ২৫ টাকা দেশি লাল আলু ৪০/৫০ টাকা।লেবু প্রতি হালি ৮০/১২০ টাকা, প্রতিকেজি বেগুন ৮০টাকা, পটল ৮০ টাকা, মুলা, ৬০ টাকা, ধুন্দুল, ঝিঙে, করলা, কাকরোল, ভেন্ডি, চিচিঙ্গা, বরবটি, ৮০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিকেজি শিং মাছ চাষের ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, শোল মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, রুই মাছ প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, বড় টেংরা ৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পাঙাস১৮০/ ২২০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫টাকা বিক্রি হচ্ছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি। রসুনের কেজি ২০০ টাকা।
লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে কথা হয় রিকশাচালক বাদশা মিয়ার সাথে তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিদিন আয় ৪০০/৫০০ টাকা, আর ব্যয় এর চাইতে বেশি।রমজান মাস আসলেই ভালো-মন্দ খাওয়ার ইচ্ছা হয় কিন্তু অর্থের অভাবে পারিনা, একদিকে যেমন উর্ধমুখী দাম, অন্যদিকে সিন্ডিকেট, বর্তমানে ঋণ করে চলছি। আল্লাহ আমাদের খাওয়ার জন্য পেট দিয়েছেন। চোখ দিয়েছেন দেখার জন্য, হাত-পা দিয়েছেন কাজ করে চলার জন্য। কাজকর্ম ঠিকই করছি, কিন্তু বাজারের এমন অবস্থায় চলা দায় হয়ে পড়েছে। কোনো কিছু কিনতে গেলে এক বারের জায়গায় ১০ বার ভাবতে হয়।
অটো চালক ফজল মিয়া বলেন, ‘জীবনটা কয়লা হয়ে যাচ্ছে।গরীবের সবজি ছিল পেঁপে, যে পেঁপে এক মাস আগে ২০-২৫ টাকায় কিনছি সেই পেঁপে ৬০ টাকায় বিক্রি করছে। এরকম হলে কোথায় যাব আমরা গরিবরা? কার কাছে গিয়া বলব আমাদের জন্য একটু দয়া করেন?’
মুড়াকড়ি গ্রামের জয়নাল মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, সারাদেশের মানুষ মহাবিপদে আছে বাজার নিয়ে। আর আমরা এ অবস্থা বেঁচে থেকেও মৃত্যুর সমান। সবকিছুর দাম রমজান মাস আসলেই নাগালের বাইরে চলে যায়। ব্রয়লার মুরগি কিনতে হচ্ছে ১৭০/১৮০ টাকা কেজি। যা এক মাস আগেও ১৪০ টাকা দিয়ে কিনেছি।’
অন্যদিকে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি হালি৫৫ টাকা,হাঁসের ডিম ৬০/৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সালেহ উদ্দিন নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বুল্লাবাজারে এসেছেন মাছ কিনতে,তিনি বলেন, ‘বাজারে আসলে চোখেমুখে অন্ধকার দেখি। প্রতি সপ্তাহে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েই চলছে। আগে সাতদিনে তিন থেকে চারদিন মাছ খেতাম। কিন্তু সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সপ্তাহে একদিন মাছ কিনতে আসি। গত সপ্তাহে পাবদা মাছ ৩০০ টাকা কেজি কিনেছি। কিন্তু প্রথম রমজান আজকে ৪০০ টাকা,কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে চাষ করা রুই মাছ ৩৫০ টাকা করে দুই কেজি ৭০০ টাকায় কিনেছি।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা তো আমাদের চলমান,আমারা প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করবো, তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে ব্যবসায়ীদের কোনো অনিয়ম দেখলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি।












