
সিদ্ধিরগঞ্জে এক ব্যবসায়ীসহ পরিবারের নারীদের উপর অতর্কিত হামলা:
বাড়িঘরে লুটপাট : ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের নারীদের উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়ে আহত হয়েছে ব্যবসায়ী মো: আসলাম হোসেন। এছাড়াও তার মা, দুই বোন ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে সিদ্ধিরগঞ্জ নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর আজিবপুর আউলাবন এলাকায়।
হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী আহত আসলাম হোসেন চিকিতসা শেষে ৮ জনের নাম উল্লেখ ও আরো অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনকে আসামী করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
হামলাকারী সন্ত্রাসীরা হলো, সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের আউলাবন এলাকার সন্ত্রাসী সাহেব আলীর সহযোগী ও কেইস পাটনার সন্ত্রাসী ১। মো: শরিফ-পিতা মোঃ জাকির হোসেন, ২। মোঃ জাকির হোসেন-পিতা রশিদ মুন্সি, ৩। মোঃ সিয়াম-পিতা মোঃ জাকির হোসেন, ৪। মোঃ শফিক- পিতা অরুন মুন্সি, ৫। মোঃ শহিদুল-পিতা মোঃ শফিক, ৬। মোঃ মনির-পিতা মোঃ রশিদ মুন্সি, ৭। মোঃ আরিফ-পিতা মোঃ মনির হোসেন ও ৮। মোসাঃ বকুল-স্বামী মো: জাকির সহ আরো অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ সন্ত্রাসী বাহীনি।
আহত আসলাম জানায়- হামলাকারী জাকিরের বড় ছেলে মো: শরিফ সন্ত্রাসী সাহেব আলীর সহযোগী। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে র্যাব এর সদসদের উপর হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পরে সন্ত্রাসী সাহেব আলীকে গ্রেপ্তারের পর জাকিরের বড় ছেলে শরিফকে গ্রেপ্তার করে র্যাব এর সদস্যরা। এই সব ঘটনার বিষয় আমি কিছুই জানি না।
আমি ব্যবসা করি, আমার ঘর ভারার টাকা পাই, আমি কোন খারাব প্রকৃতির লোকদের সাথে চলা ফেরা করিনা।
কিন্তু জাকিরের ছেলে শরিফকে র্যাব গ্রেপ্তার করেছে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ করে আমাকে খুন জখম করার হুমকি প্রদান করতে থাকে।
এই আক্রোশে ১ই জানুয়ারী বেলা অনুমান ১১টার দিকে তারা সন্ত্রাসী বাহীনি সহ আরো অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন বেআইনি জনতাবদ্ধে দেশীয় তৈরী ধারালো রামদা, কাঠের ডাসা, লোহার রড ও এসএস পাইপ সহ সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন উত্তর আজিবপুর সাকিনে আমার বসত বাড়ীতে আসিয়া আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করিতে থাকে।
আমি তাদের গালি গালাজ করিতে নিষেদ করিলে তারা আমাকে এলোপাথারীভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি মারিয়া শরীরের বিভিন্নস্থানে নীলা ফুলা জখম করে। সস্ত্রাসীদের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমার মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করিয়া মাথার মধ্যখানে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে এবং ধারালো ছোরা দিয়ে বাম হাতের কজির উপরে আঘাত করিয়া গুরুত্বর কাটা রক্তাক্ত জখম করে।
তিনি আরো বলেন হামলায় তার স্ত্রী বিলকিছ আক্তার, তার বোন রাবেয়া ও মা আছিয়া বেগম তাকে বাচানোর জন্য আগাইয়া আসিলে সন্ত্রাসী বাহিনীরা তাদের উপর হামলা করে শরীরের বিভিন্নস্থানে নীলা ফুলা জখম করে।
তাদের হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়া আমার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করিলে আমার স্ত্রী তার বাম হাত দিয়া ফিরাইলে বাম হাতের কব্জির উপর লেগে রক্তাক্ত জখম হয়।
আসামীরা আমার বোনের তলপেটে লাথি মেরে জখম করে এবং আমার বোনের পরিধেয় জামা কাপড় টেনে ও মাথার চুলের মুঠি ধরে টানা হেচড়া করে শ্লীলতা হানি করে।
আসলাম বলেন, আমার বোনের গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্নের চেইন ও কানে থাকা ৬ আনা ওজনের স্বর্নের দুল যাহার মূল্য ২,০০,০০০ টাকা জোর করিয়া নিয়া যায়।
ঐ সময় আমাদের ডাক চিৎকারে লোকজন আগাইয়া আসিতে থাকিলে বিবাদীগন আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনদের সময় সুযোগমত পাইলে খুন করিয়া লাশ গুম করে ফেলিবে বলে হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আমার আত্মীয় স্বজনের সহায়তায় আমরা খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে গিয়া চিকিৎসা করাই।
চিকিৎসা শেষে সামান্য সুস্থ হয়ে থানায় এসে অভিযোগ প্রদান করিতে বিলম্ভ হই।
এ ঘটনার অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই (নি:) মো: ওয়ালিউল্লাহ জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















