
স্টাফ রিপোর্টার ■মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
নরসিংদীর জেলা মনোহরদী থানার দৌলতপুর ইউনিয়নের কোচেরচর মধ্যপাড়া জামে মসজিদে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের পোস্টারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মাহফিলের পোস্টারে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আকন্দের নাম না থাকায় মসজিদের খতিব মাওলানা মোঃ সেলিম মিয়াকে অক্ষত ভাষায় গালমন্দ করে এই ইউনিয়ন থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। আলোচিত ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
মাগরিবের পর বিক্ষোভ মিছিল
গত নভেম্বর ২০২৫, শেষে দিকে, মাগরিবের নামাজ শেষে কোচেরচর মোল্লা বাজারে কয়েকশ মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিএনপির স্থানীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ঘোষণা দেন—
“ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আকন্দকে প্রকাশ্যে ইমাম সাহেবের কাছে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত বিএনপি অফিস তালাবদ্ধ থাকবে।”
তারা আরও জানান, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সমাধান না হলে সভাপতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আকন্দের অতীত কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ইউনিয়ন বাসী।
বিক্ষোভে উপস্থিত একাধিক মানুষ জানান, ০৫ আগস্ট ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পর থেকে ইউনিয়নের কোনো অনুষ্ঠানে ফারুক মিয়া না থাকলে তিনি বিভিন্নভাবে বানচালের চেষ্টা করেন। এছাড়া, তিনি বিগত সময়ে একাধিক বিষয়ে আলোচনায় এসেছেন। এই কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
বিএনপি নেতাদের অবস্থান
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিন মিয়া, উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন—
“আমি বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি। সাংগঠনিকভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সভাপতির ফোন বন্ধ
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় নেতাদের নিন্দা
স্থানীয় বিএনপি নেতা রাজু মিয়া বলেন—
“মসজিদের খতিব সেলিম মিয়াকে গালমন্দের বিষয়টি আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং সাংগঠনিকভাবে এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকায় উত্তেজনা
ঘটনার পর কোচেরচর বাজার ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাজারের দোকানপাটে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা হয়নি।






















